Menu

রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণ

Last Updated on January 15, 2022 by বাংলা গাইড

রামাই পণ্ডিতের ‘শূন্যপুরাণ’ 

রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণ-আলোচনা বাংলা সাহিত্যের ধর্মমঙ্গল কাব্য প্রসঙ্গে হয়ে থাকে। ‘শূন্যপুরাণ’ বিষয়ে এই পোস্টে আলোচিত হবে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে  এর মুল্য রয়েছে।

শূন্যপুরাণ সমস্যা

রামাই পণ্ডিতের ‘শূন্যপুরাণ’-এর কাল নিয়ে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। নগেন্দ্রনাথ বসু, দীনেশচন্দ্র সেন প্রমুখ গবেষকগণ শূন্যপুরাণের ভাষাকে খুব পুরানো বলে মনে করেছিলেন। রামাই পণ্ডিতকে তাঁরা দশম-একাদশ শতকের বলে সিদ্ধান্ত করেছিলেন। আধুনিক পণ্ডিতদের মতে বানান ও ভাষা-বিকৃতিই প্রাচীন আচার্যদের ভ্রান্ত করেছিল। এই বইটি সপ্তদশ শতকের শেষ ভাগে বা অষ্টাদশ শতাব্দীতে লেখা হয়েছিল। বিষয়বস্তুর মধ্যে বেশ প্রাচীনত্বের ছাপ আছে। কনারক মন্দিরের গৌরবকালের বর্ণনা, চতুর্দশ শতাব্দীর ফিরোজশাহ্ তুঘলকের (আবার পরবর্তীকালের কালাপাহাড়েরও হতে পারে) আক্রমণে ওড়িশায় হিন্দুদের দুর্গতি এই বইয়ে লেখ্য রূপ পেয়েছে অষ্টাদশ শতকে অথবা সামান্য আগে। রামাই পণ্ডিত নামটিও ধর্মপুজকদের কাব্যগত অলৌকিক জগৎ থেকে এসেছে। একালের কোনো ঐতিহাসিকই আর শূন্যপুরাণকে বেশি পুরানো ব্যাপার বলে ভাবেন না।

আরো পড়ুন--  আর্যাতর্জা কী

 

শূন্যপুরাণ কাব্য-পরিচয়

শূন্য পুরাণের কতকাংশে ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণা আছে। ভৌগোলিক পটভূমি ওড়িশার। মুসলমান আক্রমণে দেশ ও ধর্ম বিপর্যস্ত। কবি কল্পনা করেছেন গোঁড়া হিন্দুয়ানির পাপে দেবতারাই মুসলমানরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। ধর্মের মুসলমান বেশ-কল্পনার পেছনে কল্কি অবতারের ধারণাও কিছুটা সক্রিয় থাকতে পারে। রচনা এবং কল্পনা কৌতূহলোদ্দীপক। সেখানেও প্রসঙ্গক্রমে ওড়িশার কথা এসেছে। ধর্মের রণসজ্জার ছড়ায় কনারকের সূর্য মন্দিরের বর্ণনা এসে পড়েছে সুনিশ্চিত। কবির বর্ণনা–

আরো পড়ুন--  অন্নদামঙ্গল ১৭৫১ খ্রি.

 

অস্তরে জানিয়া মৰ্ম্ম  কৈলাস ত্যজিয়া ধৰ্ম্ম

মায়ারূপী হৈল খোন্দকার।

হইয়া যবনরূপী  শিরে পরে কালটুপি

হাতে ধরে ত্রিকচ কামান।

চাপিয়া উত্তম হয়  ত্রিভুবনে লাগে ভয়

খোদায় হৈল এক নাম।…..

যতেক দেবতাগণ   সভে হয়্যা একমন

আনন্দেতে পরিল ইজার।

ব্ৰহ্মা হৈল মহামদ     বিষ্ণু হৈল পৈগম্বর

আদম হৈল শূলপাণি।

গণেশ হৈল গাজী    কার্তিক হৈল কাজী

ফকীর হৈল যত মুনি।

 

শূন্যপুরাণকে কি ধর্মমঙ্গল বলা যাবে? 

শূন্যপুরাণে ঐতিহাসিক স্মৃতিরোমন্থন, কাহিনী নেই। প্রথানুগ ধর্মমঙ্গল একে বলা যায় না। অনেকটাই ধর্মপূজাপদ্ধতি-সৃষ্টিপত্তনের কথায় পূর্ণ। মীননাথ-গোরক্ষনাথের কাহিনী ধর্ম-প্রসঙ্গের সঙ্গে মিলে গিয়েছে মাঝে মাঝে। জাজপুরে (ওড়িশায়) ধর্মের অত্যাচার, হরিশ্চন্দ্র রাজার কাহিনী প্রভৃতি এই গ্রন্থে পাওয়া গিয়েছে।

আরো পড়ুন--  ভারতচন্দ্রের রচনাবলী

 

 

 

———————–
সাহায্য- ক্ষেত্রগুপ্ত
———————–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: সংরক্ষিত !!