Menu

প্রাকৃতপৈঙ্গল

প্রাকৃতপৈঙ্গল

 
ভাব, বিষয়বস্তু ও ভাষা-কৌশলের দিক থেকে এই গ্রন্থটি বাঙালী জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। গ্রন্থটি শৌরসেনী প্রাকৃত ও অপভ্রংশে লেখা হয়। বিভিন্ন কবি-রচিত শ্লোকের সঙ্কলন। সংকলকের নাম, পিঙ্গল। ইনি ‘পিঙ্গল ছন্দসূত্র’ গ্রন্থাকার নন। পণ্ডিতজনের অনুমান, ১৪শ শতাব্দীতে কাশীধামে ‘প্রাকৃতপৈঙ্গল’ সঙ্কলিত হয়। এই গ্রন্থেও রাধা ও গােপালীলার উল্লেখ আছে, আছে বিভিন্ন দেবদেবীর সঙ্গে ‘রাই’-এর উল্লেখ এবং শিবের প্রসঙ্গ, আর বাঙালীর জীবনভােগের স্বাদু সংবাদ–
 
ওগ্গ‌রা ভত্তা, রম্ভঅ  পত্তা।
 
গাইক ঘিত্তা, দুগ্ধ সযুক্তা।
 
মৌইলি মচ্ছা, নালিতে গচ্ছা।
 
দিজ্জই কান্তা, খায় পুণ্যবন্তা ॥
 
অর্থাৎ, ওগরানাে ভাত কলা পাতায় ঢালা, গাওয়া ঘি, সুস্বাদু দুধ, মৌরলা মাছ, নালতে শাক রন্ধন করলেন কান্তা। কান্তা দিচ্ছেন, পুণ্যবান আহার করছেন।
 
এই রকম পল্লীবাসী কৃষি-নির্ভর প্রাচীন বাঙালী মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিচয় ‘প্রাকৃত পৈঙ্গলে’র আর একটি পদে পাওয়া যায়–
 
পুত্ত পবিত্ত বহুত্ত ধণা ভত্তি কুটুম্বিণি সুদ্ধমণা।
 
হাক্ক তরাসই ভিচ্চগণা কো কর বব্বর সগ্গ‌মণা ॥
 
(বাঙ্গালীর ইতিহাস, আদি পর্ব)
 
অর্থাৎ, পুত্র পবিত্রমনা, প্রচুর ধন, স্ত্রী ও কুটুম্বিনীরা শুদ্ধচিত্তা, হাঁকে ত্রস্ত হয় ভৃত্যগণ-এই সব ছেড়ে কোন বর্বর স্বর্গে যেতে চায়।
 
এইভাবে দেখা যায় কয়েক শতক ধরে আলংকারিকদের বহু নিয়মের গণ্ডী পেরিয়ে, অনেক কবির শব্দ-সন্ধানের নিদ্রাহীন রাত ছুঁয়ে মাগধী অপভ্রংশের জঠর থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলা ভাষার ছােট্ট প্রাণ। তারপর আস্তে আস্তে ডানা মেলে একসময় কাপিয়ে পড়েছে মধ্যযুগের আকাশে আপনাকে জানতে-বুঝতে-চিনতে।
 
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: সংরক্ষিত !!
close button