Menu

সোমপ্রকাশ পত্রিকা ১৮৫৮

Last Updated on December 25, 2021 by বাংলা গাইড

সোমপ্রকাশ পত্রিকা ১৮৫৮

 
 
 
সোমপ্রকাশ আবির্ভাব : 
১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর এই পত্রিকা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
 
পরিচিতি : 
দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় সোমপ্রকাশ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর মোহনলাল বিদ্যাবাগীশের হাতে সম্পাদনার ভার দেন এবং শেষের দিকে তাঁর পুত্র উপেন্দ্রকুমার “নবপর্যায় সোমপ্রকাশ” সম্পাদনা করতেন। মাঝে কাবুলে ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য প্রায় এক বছর পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ ছিল। 
 
উদ্দেশ্য : 
এই পত্রিকা প্রকাশের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ঈশ্বর গুপ্তের মৃত্যুর পর এবং অক্ষয় দত্তের সাংবাদিকতা থেকে অবসর গ্রহণের পর সাংবাদিকসুলভ প্রকাশনার জগৎকে সমৃদ্ধ করা এবং দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল ‘তত্ত্ববোধিনী’ ও ‘বিবিধার্থ সংগ্রহে’র ঐতিহ্যকে আপন মতে ও পথে সমৃদ্ধ করা। 
 
বৈশিষ্ট্যঃ 
(ক) ‘সোমপ্রকাশ’ বাংলা সাহিত্য ও ভাষাকে গৌরবশ্রী দান করেছিল। দ্বারকানাথের সাংবাদিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটেছে এই পত্রিকায়। তাঁর ব্যক্তিত্ব এই পত্রিকাকে স্বকীয়তার ঐতিহ্যে মণ্ডিত করেছিল। 
(খ) সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, রাজনীতি প্রভৃতি নানান বিষয় এই পত্রিকার পৃষ্ঠাকে উজ্জ্বল করে তুলেছিল। 
(গ) সোমপ্রকাশ বাংলা সাময়িক পত্রে প্রথম বিশুদ্ধ রাজনীতির সূত্রপাত করে। ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় এই পত্রিকা জাতীয় কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতা করে। 
(ঘ) সোমপ্রকাশ পত্রিকার মাধ্যমে পাঠক জানতে পারল বাংলা ভাষায় সব রকমের ভাব প্রকাশ করা যায়। হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকাও লিখেছিল—“The Shoma Prakash was first projected by Pandit Iswar Chandra Vidyasagar and we believe the first number was written by him. But he fell sick and made over the paper to Pandit Dwarkanath, under whose able anagement the paper attained the foremost place among the Bengalee newspapers.” 
(ঙ) এই পত্রিকা কৃষকদের চেতনার জাগরণে, নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে, দরিদ্র জনগণের উপর ব্রিটিশ জননীতির প্রতিবাদে ছিল মুক্তকণ্ঠ। এমনকি বিধবাবিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষা প্রসারে এই পত্রিকা প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় রেখেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: সংরক্ষিত !!
close button